

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুর বাবা রুবেল মিয়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের নিমাইকাশারী এলাকার বাসিন্দা রুবেল মিয়ার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আয়েশা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে চিটাগাং রোডের হালিমা শপিং টাওয়ারে অবস্থিত সুগন্ধ্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তার চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন গাইনি বিশেষজ্ঞ ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন অধ্যাপক ডা. দিলরুবা আখতার।
পরিবারের দাবি, বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক ২১ জুনের মধ্যে সিজারিয়ান অপারেশনের পরামর্শ দেন। পরে ২২ জুন হাসপাতালে ভর্তি করার পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম হয়। জন্মের পরপরই নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে সাইনবোর্ড এলাকার বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
৬ মাসের মধ্যে চালু হবে কাঁচপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল: প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে নবজাতকটির মৃত্যু হয়। পরে শিশুর পরিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ভুল সময়ে সিজার করানোর অভিযোগ তোলে এবং রাতেই সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
নবজাতক হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, জন্মের সময় শিশুটির ওজন ছিল প্রায় দেড় কেজি, যা স্বাভাবিক ওজনের তুলনায় অনেক কম। এছাড়া শিশুটির শারীরিক অবস্থাও জটিল ছিল বলে তারা উল্লেখ করেন।
এদিকে চিকিৎসক ডা. দিলরুবা আখতার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রোগীর প্রথম সন্তানও সিজারের মাধ্যমে জন্ম হয়েছিল। দ্বিতীয়বারও চিকিৎসাগত বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ের আগেই সিজার করা প্রয়োজন ছিল। অপারেশনের পর নবজাতকের শ্বাসকষ্টসহ কিছু জটিলতা দেখা দেওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তিনি মাতুয়াইল শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে না থাকলেও অধ্যাপক ও চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুজিবুর রহমান দাবি করেন, ডা. দিলরুবা আখতার বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বা বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত নন।
সুগন্ধ্যা হাসপাতালের মালিক কবির হোসেন বলেন, রোগীর স্বজনদের সম্মতিতেই অপারেশন করা হয়েছে। চিকিৎসক কোনো জোরপূর্বক সিদ্ধান্ত নেননি। নবজাতকের শারীরিক অবস্থাও জন্মের সময় জটিল ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামীম রেজা জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
© 2026 News Alo All Rights Reserved.