

প্রশ্ন: আজানের সময় কথা বলা কি হারাম, নাজায়েজ বা গুনাহের কাজ?
উত্তর: ইসলামে আজান শোনা এবং মুয়াজ্জিনের কথার জবাব দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। তাই আজান শুরু হলে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বন্ধ রেখে মনোযোগ দিয়ে আজান শোনা এবং তার জবাব দেওয়া উত্তম।
হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন—
“যখন তোমরা আজান শুনবে, তখন মুয়াজ্জিন যা বলে, তোমরাও তার অনুরূপ বলো।”
(সহিহ বুখারি: ৬১১)
তবে শরিয়তের দৃষ্টিতে আজানের সময় কথা বলা বা প্রয়োজনীয় কোনো কাজ করা হারাম বা নাজায়েজ নয়। কেউ যদি আজানের সময় কথা বলে বা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকে, তাহলে সে গুনাহগার হবে—এমন কোনো সহিহ দলিল নেই।
এ কারণে আজানের সময় কথা বলার জন্য কাউকে কঠোরভাবে ভর্ৎসনা করাও সঠিক নয়। কারণ, আজানের জবাব দেওয়া সুন্নত হলেও তা ফরজ বা ওয়াজিব নয়।
সমাজে প্রচলিত একটি বক্তব্য হলো, আজানের সময় কথা বললে ৪০ বছরের ইবাদত নষ্ট হয়ে যায়।
ইসলামী গবেষকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্যের পক্ষে কোনো সহিহ হাদিস নেই। বরং এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বর্ণনা।
আরও পড়ুন:
১০ মহররমের বিশেষ মর্যাদার প্রকৃত কারণ কী? কুরআন-হাদিসের আলোকে আশুরার ফজিলত ও ঐতিহাসিক সত্য
মুয়াজ্জিন আজানের যে বাক্যগুলো বলেন, সেগুলোর জবাব একইভাবে দেওয়া সুন্নত। তবে দুটি স্থানে ব্যতিক্রম রয়েছে।
মুয়াজ্জিন যখন বলেন—
তখন জবাবে বলতে হবে—
“লা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।”
আর ফজরের আজানে মুয়াজ্জিন যখন বলেন—
“আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাওম” (নামাজ ঘুমের চেয়ে উত্তম),
তখন জবাবে বলা উত্তম—
“সাদাকতা ওয়া বারারতা” (আপনি সত্য ও উত্তম কথা বলেছেন)।
হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি যদি আন্তরিকতার সঙ্গে মুয়াজ্জিনের প্রতিটি বাক্যের যথাযথ জবাব দেয়, তবে সে জান্নাত লাভ করবে।
(সহিহ মুসলিম: ৩৮৫)
সুতরাং, আজানের সময় কথা বলা গুনাহ নয়। তবে আজানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, মনোযোগ দিয়ে তা শোনা এবং সুন্নত অনুযায়ী জবাব দেওয়া একজন মুসলিমের জন্য অত্যন্ত উত্তম ও ফজিলতপূর্ণ আমল।
© 2026 News Alo All Rights Reserved.