

কোষ্ঠকাঠিন্য এমন একটি সমস্যা, যা অনেক মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে অস্বস্তিকর করে তোলে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও অনেকের পেট ঠিকমতো পরিষ্কার হয় না, ফলে সারাদিন পেট ভার লাগা, গ্যাস কিংবা অস্বস্তির মতো সমস্যায় ভুগতে হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্ত্রের স্বাভাবিক গতিশীলতা কমে গেলে মলত্যাগে সমস্যা দেখা দেয় এবং তখনই কোষ্ঠকাঠিন্য তৈরি হয়। এ সমস্যা দূর করতে অনেকেই বিভিন্ন ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো এক কাপ লাল চায়ের সঙ্গে এক চামচ ঘি মিশিয়ে পান করা।
আরও পড়ুন:
আজ বিশ্ব বাবা দিবস সন্তানের জীবনে বাবার অবদান স্মরণ করার দিন
পুষ্টিবিদ ও ম্যাক্রোবায়োটিক প্রশিক্ষক শিল্পা অরোরার মতে, এই পানীয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আয়ুর্বেদিক ঘরোয়া পদ্ধতির অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অনেকের বিশ্বাস, এটি হজম প্রক্রিয়া সহজ করতে এবং অন্ত্রের কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়ক হতে পারে।
বিভিন্ন কারণে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—
এসব কারণে অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হলে মলত্যাগ কঠিন হয়ে যেতে পারে।
ঘিতে বুটিরিক অ্যাসিড নামের একটি উপাদান থাকে, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক বলে মনে করা হয়। এটি অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করতে এবং মল নরম রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া ঘি অন্ত্রকে কিছুটা লুব্রিকেট করতেও সাহায্য করে বলে ধারণা করা হয়।
লাল চায়ে থাকা ক্যাফেইন ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান হজম প্রক্রিয়াকে উদ্দীপিত করতে সাহায্য করতে পারে। এটি অন্ত্রের নড়াচড়া সক্রিয় করে মলত্যাগ সহজ করতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
ঘি-চা কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক হতে পারে, তবে এটি কোনো চিকিৎসার বিকল্প নয়। দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটে ব্যথা বা অন্য কোনো জটিল উপসর্গ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সুস্থ হজমের জন্য পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং আঁশসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
© 2026 News Alo All Rights Reserved.