শিরোনাম :
Logo ‘মামলা করতে বাধা না থাকায় ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেড়েছে’— সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo ‘দক্ষতাই আত্মনির্ভরশীল হওয়ার মূল হাতিয়ার’: ডিসি রায়হান কবির Logo হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড Logo ’শেখ মুজিবের পরিবর্তে ওসমান হাদিকে জাতির পিতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে শিবির?’ Logo পাকা আমের সালাদ ও আমের শ্রিখণ্ড তৈরির সহজ রেসিপি Logo জাবির নারী শিক্ষার্থীদের ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে বহিরাগত আটক Logo বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন, কমতে পারে দেশের বাজারেও Logo টাইব্রেকারের নাটকে জার্মানিকে বিদায়, শেষ ষোলোয় প্যারাগুয়ে Logo জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল ব্রাজিল Logo রিয়া গোপের পরিবারকে ১ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা দিলেন নাসিক প্রশাসক
Advertisement Space

১০ মহররমের বিশেষ মর্যাদার প্রকৃত কারণ কী? কুরআন-হাদিসের আলোকে আশুরার ফজিলত ও ঐতিহাসিক সত্য

shahalam
ইসলাম ডেস্ক
  • আপডেট :
  • ১৩৩০৮ বার দেখা হয়েছে
১০ মহররমের বিশেষ মর্যাদার প্রকৃত কারণ কী? কুরআন-হাদিসের আলোকে আশুরার ফজিলত ও ঐতিহাসিক সত্য
×

ইসলামী বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম চারটি সম্মানিত মাসের অন্যতম। এই মাসের ১০ তারিখ, অর্থাৎ আশুরার দিন, ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজে এ দিনে রোজা রেখেছেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

 

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—১০ মহররমের বিশেষ মর্যাদার প্রকৃত কারণ কী? এদিনের ফজিলত কি শুধু কারবালার ঘটনার জন্য, নাকি এর পেছনে আরও গভীর ইতিহাস রয়েছে? কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে এর উত্তর জানা জরুরি।

 

মহররম: সম্মানিত চার মাসের একটি

মহান আল্লাহ তাআলা বলেন—

“নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা বারোটি। এর মধ্যে চারটি সম্মানিত মাস।”
(সুরা আত-তাওবা: ৩৬)

এই চারটি সম্মানিত মাসের মধ্যে মহররম অন্যতম। তাই এ মাসে নেক আমলের গুরুত্ব এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার গুরুত্ব আরও বেশি।

 

আশুরার রোজার গুরুত্ব

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন—

“আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে রমজানের রোজা ও আশুরার দিনের রোজার মতো অন্য কোনো রোজাকে এত গুরুত্ব দিতে দেখিনি।”
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০০৬)

এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, আশুরার রোজা মহানবী (সা.)-এর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নফল ইবাদত ছিল।

 

আশুরার রোজার ফজিলত

আশুরার রোজার বিশেষ মর্যাদা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন—

“আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আশুরার দিনের রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের (সগিরা) গুনাহের কাফফারা হবে।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬২)

এ হাদিস থেকে জানা যায়, আন্তরিকতার সঙ্গে আশুরার রোজা পালন করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার পূর্ববর্তী এক বছরের ছোট গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিতে পারেন।

 

আরও পড়ুন:

দেয়ালে মানুষের ছবি থাকলে সেই কক্ষে নামাজ আদায় করা যাবে কি?

 

১০ মহররমের বিশেষ মর্যাদার প্রকৃত কারণ

সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ১০ মহররমের বিশেষ মর্যাদার মূল কারণ হলো—এই দিনে আল্লাহ তাআলা নবী মুসা (আ.) এবং তাঁর অনুসারী বনি ইসরাইলকে ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন।

 

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনায় এসে দেখলেন, ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা রাখছে। কারণ জানতে চাইলে তারা জানায়—

“এটি এমন একটি মহান দিন, যেদিন আল্লাহ মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইলকে ফেরাউনের হাত থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। তাই মুসা (আ.) এদিন রোজা রাখতেন।”

 

তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন—

“মুসা (আ.)-এর অনুসরণ করার ব্যাপারে তোমাদের চেয়ে আমাদের অধিকার বেশি।”

 

এরপর তিনি নিজেও রোজা রাখেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দেন।
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৩০; সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০০৪)

অতএব, ১০ মহররমের ফজিলতের মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে নবী মুসা (আ.) ও তাঁর জাতির মুক্তি লাভের স্মরণ।

 

আশুরা সম্পর্কে প্রচলিত কিছু বর্ণনা কতটুকু সত্য?

সমাজে প্রচলিত রয়েছে যে, আশুরার দিন—

  • হজরত আদম (আ.)-এর তাওবা কবুল হয়েছিল।
  • হজরত নুহ (আ.)-এর নৌকা জুদি পর্বতে ভিড়েছিল।
  • হজরত ইবরাহিম (আ.) জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
  • আরও বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছিল।

তবে এসব ঘটনার পক্ষে সহিহ ও নির্ভরযোগ্য হাদিসে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। ইসলামী গবেষক ও মুহাদ্দিসদের মতে, এসব বর্ণনার অধিকাংশই দুর্বল বা ভিত্তিহীন। তাই এ ধরনের তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত।

 

কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইন্তেকালের প্রায় ৫০ বছর পর ৬১ হিজরির ১০ মহররমে কারবালার প্রান্তরে তাঁর প্রিয় দৌহিত্র হজরত হুসাইন (রা.) শাহাদাত বরণ করেন। ইসলামের ইতিহাসে এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা।

 

মুসলমানরা এদিন হজরত হুসাইন (রা.)-এর ত্যাগ, সত্যের প্রতি অবিচলতা এবং জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।

 

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কারবালার ঘটনা ১০ মহররমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার কারণ নয়। কারণ আশুরার রোজা ও এ দিনের ফজিলত রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগ থেকেই নির্ধারিত ছিল, যা কারবালার ঘটনার বহু বছর আগে থেকেই প্রচলিত।

 

আশুরার রোজা কীভাবে পালন করা উত্তম?

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইহুদিদের থেকে ভিন্নতা বজায় রাখতে পরবর্তী বছর ৯ ও ১০ মহররম একসঙ্গে রোজা রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

তিনি বলেন—

“আমি যদি আগামী বছর জীবিত থাকি, তবে অবশ্যই নবম তারিখেও রোজা রাখব।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৩৪)

এ কারণে আলেমগণ ৯ ও ১০ মহররম অথবা ১০ ও ১১ মহররম—দুটি দিন রোজা রাখাকে উত্তম বলেছেন।

১০ মহররম বা আশুরার দিন ইসলামে মর্যাদাপূর্ণ হওয়ার প্রধান কারণ হলো—এ দিনে আল্লাহ তাআলা নবী মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইলকে ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজে এদিন রোজা রেখেছেন, সাহাবিদেরও উৎসাহিত করেছেন এবং এ রোজার বিনিময়ে এক বছরের সগিরা গুনাহ ক্ষমার সুসংবাদ দিয়েছেন।

 

অন্যদিকে, কারবালার শোকাবহ ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিই আশুরার মর্যাদার মূল কারণ নয়। তাই সহিহ কুরআন ও হাদিসের আলোকে আশুরার প্রকৃত তাৎপর্য জানা এবং সে অনুযায়ী আমল করাই একজন মুসলমানের কর্তব্য।

Advertisement Space

নিউজটি শেয়ার করে অন্যকে দেখার সুযোগ করে দিন

আরো পড়ুন
Advertisement Space 01

বিভাগের খবর

© 2026 News Alo All Rights Reserved.

Design & Developed BY:Host cell BD
ThemesCell