

প্রশ্ন: কোনো ঘরের দেয়ালে মানুষের ছবি টাঙানো বা আঁকা থাকলে সেখানে নামাজ আদায় করলে নামাজ হবে কি?
উত্তর: ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে যে কক্ষে মানুষের বা অন্য কোনো প্রাণীর ছবি প্রদর্শিত অবস্থায় থাকে, সে কক্ষে নামাজ আদায় করা মাকরুহ (অপছন্দনীয়)। ছবিটি নামাজির সামনে, ডান পাশে, বাম পাশে কিংবা পেছনে থাকলেও একই বিধান প্রযোজ্য।
সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, “যে ঘরে ছবি রয়েছে, সেখানে নামাজ আদায় করো না।” (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা)
তবে এমন স্থানে নামাজ আদায় করলে নামাজ বাতিল হয়ে যায় না। যদি কোনো ব্যক্তি ছবিযুক্ত কক্ষে নামাজ আদায় করেন, তাহলে তার নামাজ শুদ্ধ হবে এবং তা পুনরায় আদায় করার প্রয়োজন হবে না। তবে সম্ভব হলে ছবি অপসারণ করা বা অন্য স্থানে নামাজ আদায় করা উত্তম।
ইসলামী শিক্ষায় ঘরের দেয়ালে মানুষ বা প্রাণীর ছবি টাঙিয়ে রাখা কিংবা এমনভাবে প্রদর্শন করা, যাতে তা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান থাকে, নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে ঘরে কুকুর বা প্রাণীর ছবি থাকে সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “ফেরেশতারা সেই ঘরে প্রবেশ করেন না, যেখানে কুকুর অথবা প্রাণীর ছবি থাকে।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
এ বিষয়ে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এক সফর থেকে ফিরে এসে তার ঘরে ঝোলানো একটি পর্দা দেখেন, যাতে প্রাণীর ছবি ছিল। তিনি তা অপসারণ করেন এবং বলেন, “কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি ভোগ করবে তারা, যারা আল্লাহর সৃষ্টির অনুরূপ কিছু তৈরি করে।” (সহিহ বুখারি)
সুতরাং, মুসলমানদের উচিত ঘরবাড়িতে প্রাণীর ছবি প্রদর্শন থেকে বিরত থাকা এবং নামাজের জন্য ছবি-মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। এতে নামাজে মনোযোগ বৃদ্ধি পায় এবং ইসলামী আদবও রক্ষা হয়।
তথ্যসূত্র: মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম।
© 2026 News Alo All Rights Reserved.