আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মো. রায়হান কবির।
শুক্রবার (২২ মে) জেলা কালেক্টরেট জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে মুসল্লিদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় ঈদযাত্রা, কোরবানির পশুর হাট, জাল টাকা প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন তিনি।
জেলা প্রশাসক বলেন, পবিত্র ঈদুল আযহা মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগ, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের অনন্য বার্তা বহন করে। উৎসবকে ঘিরে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেজন্য জেলার প্রতিটি এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। চাঁদাবাজি, ছিনতাই, যানজট ও যেকোনো বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে জাল টাকার অপতৎপরতা বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই সাধারণ মানুষকে টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সন্দেহজনক নোট পাওয়া গেলে দ্রুত জেলা প্রশাসন অথবা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে হবে। প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
কোরবানির পশুর হাট প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক জানান, জেলায় পর্যাপ্ত সংখ্যক পশুর হাটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাটগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে বিশেষ মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এছাড়া সিসিটিভি ক্যামেরা ও জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাস ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন জেলা প্রশাসক।
গ্রামে ঈদ উদযাপনে যাওয়া নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাসা থেকে বের হওয়ার আগে দরজা-জানালার তালা ভালোভাবে পরীক্ষা করতে হবে এবং সম্ভব হলে প্রতিবেশীদের অবহিত করে যেতে হবে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের বিশেষ টহল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।
মো. রায়হান কবির বলেন, “ঈদ আনন্দ ও সম্প্রীতির উৎসব। এ আনন্দ যেন সবার ঘরে পৌঁছে যায়, সেজন্য সবাইকে সচেতন, সহনশীল ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।” তিনি আরও জানান, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার জন্যও নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া কোরবানির পশুর চামড়া দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, চামড়া সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে হবে, যাতে কোনোভাবেই চামড়া নষ্ট না হয়।
পরিশেষে জেলা প্রশাসক নারায়ণগঞ্জবাসীকে অগ্রিম ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে গুজব, অপপ্রচার কিংবা যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা জেলা কন্ট্রোল রুমে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রশাসন, পুলিশ, র্যাব ও আনসারসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে, যাতে নারায়ণগঞ্জবাসী শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন করতে পারেন।
© 2026 News Alo All Rights Reserved.