

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে এবং সেই টাকা দিতে না পারায় এক নারী ও তার সন্তানদের বাংলাদেশে পুশ-ইন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবস্থান করছেন এবং নিজ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।
অভিযোগকারী নারী সুইটি বিবি (৪০)। তার সঙ্গে রয়েছেন দুই ছেলে কুরবান দেওয়ান (১৫) ও ইমাম দেওয়ান (৬)। তাদের দাবি, তারা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা এবং বৈধ পরিচয়পত্র থাকার পরও জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জীবিকার সন্ধানে দিল্লিতে ইটভাটায় কাজ করতে গিয়ে নারী ও শিশুসহ মোট ছয়জনকে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক করে ভারতীয় পুলিশ। পরে তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর কুড়িগ্রাম সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
আরও পড়ুন:
হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৮৮৭
শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নয়াগোলা এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সুইটি বিবি বলেন, তার বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার মুরারই থানায়। কাজের জন্য দিল্লিতে যাওয়ার পর হঠাৎ পুলিশ তাদের আটক করে এবং কয়েকদিন থানায় রাখে।
তার দাবি, বাংলা ভাষায় কথা বলা ও মুসলিম পরিচয়ের কারণে তাদের বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়।

সুইটি বিবির অভিযোগ, আধার কার্ডসহ প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তাদের কাছে তিন লাখ টাকা করে ঘুষ দাবি করা হয়। টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়। এ সময় পেছনে তাকালে গুলি করার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, বাংলাদেশে প্রবেশের পর প্রায় ১০ দিন জঙ্গলে মানবেতর জীবন কাটাতে হয়েছে। খাবারের অভাব ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করার পর তারা কুড়িগ্রামের একটি গ্রামে পৌঁছান। পরে ঢাকায় গিয়ে কাজ খোঁজার চেষ্টা করলেও সফল হননি। শেষ পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জে আশ্রয় নেন।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট তাদের আটক করে বাংলাদেশ পুলিশ। প্রায় ১০০ দিন কারাভোগের পর বর্তমানে তারা স্থানীয় এক ব্যক্তির জিম্মায় রয়েছেন।
সুইটি বিবি বলেন, “আমরা ভারতীয় নাগরিক। এখন শুধু নিজের দেশে ফিরে যেতে চাই। কিন্তু কীভাবে ফিরব, সেই পথ খুঁজে পাচ্ছি না।”
তার ছেলে কুরবান দেওয়ানও অভিযোগ করেন, সীমান্তে বিএসএফ সদস্যদের মারধরের শিকার হয়েছেন তারা। দীর্ঘ সময় খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা ছাড়াই থাকতে হয়েছে।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা বলেন, সংশ্লিষ্ট ভারতীয় নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ প্রশাসন বিভিন্ন পর্যায়ে চেষ্টা করেছে। কূটনৈতিক যোগাযোগও করা হয়েছে। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কেন তাদের ফেরত নিচ্ছে না, সে বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকেই ব্যাখ্যা আসা উচিত।
© 2026 News Alo All Rights Reserved.