
দ্বিতীয়ার্ধের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে পানামাকে ২-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। ম্যাচে একটি গোল করে ইতিহাসও গড়েছেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড এখন তার দখলে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পায়নি ইংল্যান্ড। তবে বিরতির পর জুড বেলিংহ্যাম ও হ্যারি কেইনের গোলে জয় নিশ্চিত করে থ্রি লায়ন্সরা।
প্রথমার্ধে সুযোগের পর সুযোগ নষ্ট
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে মার্কাস রাশফোর্ডের জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন পানামার গোলরক্ষক। কর্নার থেকে পাওয়া ফিরতি বলেও গোল করতে ব্যর্থ হন বুকায়ো সাকা।
১৫ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে সুযোগ তৈরি করেছিল পানামা। তবে শেষ মুহূর্তে জুড বেলিংহ্যামের সময়োচিত হস্তক্ষেপে বিপদ কেটে যায়।
আরও পড়ুন:
ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোলে স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপসেরা ব্রাজিল
প্রথমার্ধের বাকি সময়েও রাশফোর্ড, সাকা ও হ্যারি কেইনের একাধিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। ৩৮ মিনিটে সাকাকে ফাউল করা হয়েছে দাবি করে পেনাল্টির আবেদন জানালেও রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
যোগ করা সময়ে বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পায় ইংল্যান্ড। রাশফোর্ডের নেওয়া বাঁকানো শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে গেলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র
বিরতির পরও কয়েকটি ভালো সুযোগ নষ্ট করে ইংল্যান্ড। ৫৫ মিনিটে রাশফোর্ডের শট সাইডনেটে লাগে। অন্যদিকে ৫৭ মিনিটে পানামার হোসে লুইস রদ্রিগেসের শক্তিশালী শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
অবশেষে ৬২ মিনিটে জট খুলে দেন জুড বেলিংহ্যাম। বুকায়ো সাকার নেওয়া কর্নার থেকে চমৎকার ভলিতে বল জালে পাঠিয়ে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন এই মিডফিল্ডার।
রেকর্ড গড়লেন হ্যারি কেইন
গোলের পাঁচ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। জুড বেলিংহ্যামের নিখুঁত ক্রস থেকে শক্তিশালী হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।
এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নেন কেইন। গ্যারি লিনেকারকে ছাড়িয়ে এটি ছিল বিশ্বকাপে তার ১১তম গোল।
শেষ মুহূর্তেও গোল পায়নি পানামা
ম্যাচের ৮৯ মিনিটে পানামা একটি গোল করলেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। ফলে শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড।
এই জয়ে গ্রুপসেরা হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে ইংলিশরা। অন্যদিকে সাহসী লড়াই করেও পরাজয় এড়াতে পারেনি পানামা।