
বাংলাদেশ পুলিশে ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) নিরস্ত্র পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে প্রার্থী ও অভিভাবকদের দালালচক্রের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী। তিনি বলেছেন, পুলিশে চাকরি পেতে কোনো ধরনের অর্থ লেনদেনের প্রয়োজন নেই। এটি একটি সেবামূলক পেশা, ব্যবসার ক্ষেত্র নয়।
নিয়োগ পরীক্ষাকে সামনে রেখে দেওয়া এক বার্তায় পুলিশ সুপার বলেন, বাংলাদেশ পুলিশে নিয়োগ সম্পূর্ণভাবে মেধা, যোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলার ভিত্তিতে সম্পন্ন হবে। কোনো প্রার্থী যদি দালাল বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিয়োগের চেষ্টা করেন, তাহলে তার প্রার্থিতা বাতিলের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।
তিনি জানান, ২০২৬ সালের ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগের শারীরিক মাপ ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষা আগামী ২৪, ২৫ ও ২৬ জুন অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইন্স মাঠ। প্রতিদিন সকাল ৮টার মধ্যে প্রার্থীদের উপস্থিত থাকতে হবে।
নিয়োগ কার্যক্রমের প্রথম দিন ২৪ জুন প্রার্থীদের শারীরিক মাপ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা হবে। এদিন পুরুষ প্রার্থীদের উচ্চতা, ওজন ও বুকের মাপ এবং নারী প্রার্থীদের উচ্চতা ও ওজন পরিমাপ করা হবে।
আরও পড়ুন:
আওয়ামী লীগের নাশকতা ঠেকাতে নারায়ণগঞ্জে উজ্জলের নেতৃত্বে শান্তি মিছিল
দ্বিতীয় দিন ২৫ জুন অনুষ্ঠিত হবে শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষা। এতে দৌড়, লং জাম্প ও হাই জাম্পের মাধ্যমে প্রার্থীদের সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হবে।
তৃতীয় দিন ২৬ জুন পুশ-আপ, সিট-আপ, ড্র্যাগিং এবং রোপ ক্লাইম্বিং পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। নির্ধারিত মান ও সময়ের মধ্যে এসব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরাই পরবর্তী ধাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
পুলিশ সুপার আরও জানান, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ রাখতে পরীক্ষার মাঠজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিশেষ মনিটরিং টিম দায়িত্ব পালন করবে, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ না থাকে।
প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রবেশপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্রের মূল কপি সঙ্গে আনতে হবে। শারীরিকভাবে সক্ষম ও মেধাবী তরুণ-তরুণীদের পুলিশ বাহিনীতে যুক্ত করার মাধ্যমে একটি দক্ষ ও পেশাদার বাহিনী গড়ে তোলাই এই নিয়োগের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের মূলমন্ত্র ‘শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, প্রগতি’। স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই বার্তা সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে চায় বাংলাদেশ পুলিশ।