
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে বড় ধরনের চমক দেখিয়েছে মিসর। গ্রুপ ‘জি’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে আফ্রিকার দেশটি। এই জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ ৯২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে মোহামেদ সালাহর দল।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য মিসরের জন্য সুখকর ছিল না। ১৫তম মিনিটে কর্নার থেকে হেড করে নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে দেন ফিন সারম্যান। প্রথমার্ধে সেই এক গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় কিউইরা। ফলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল নিউজিল্যান্ড।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে পাল্টে যায় পুরো ম্যাচের চিত্র। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে ম্যাচে ফেরে মিসর। গোলরক্ষকের প্রতিহত করা বল থেকে মোস্তাফা জিকো সমতা ফেরান। তার শট ঠেকাতে গিয়ে বল নিজের জালেই জড়িয়ে ফেলেন নিউজিল্যান্ডের গোলরক্ষক ম্যাক্স ক্রকম্বে। ফলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ১-১।
সমতায় ফেরার পর আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে মিসর। এরপর দলের সবচেয়ে বড় তারকা মোহামেদ সালাহ নিজের জাত চিনিয়ে দেন। জিকোর নিখুঁত মাইনাস পাস থেকে বল পেয়ে ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে পরাস্ত করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
আরও পড়ুন:
বিশ্বকাপে প্রথম গোলেই মেসিকে ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন লামিনে ইয়ামাল
গোল হজমের পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে নিউজিল্যান্ড। একের পর এক আক্রমণ চালালেও মিসরের রক্ষণভাগ ছিল দুর্ভেদ্য। ফলে কাঙ্ক্ষিত সমতা আর ফেরাতে পারেনি কিউইরা।
ম্যাচের শেষদিকে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মাহমুদ হাসান ত্রেজেগে। মাঠে নামার মাত্র দুই মিনিটের মাথায় নিজের তৃতীয় বল স্পর্শেই গোল করে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। তার গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-১, যা শেষ পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকে।
এই জয়ের মাধ্যমে শুধু তিন পয়েন্টই অর্জন করেনি মিসর, গড়েছে নতুন ইতিহাসও। ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপে হাঙ্গেরির বিপক্ষে দুই গোল করলেও জয় পায়নি দলটি। এরপর বহু বিশ্বকাপ খেলেও এক ম্যাচে দুই বা ততোধিক গোল করার কীর্তি আর দেখা যায়নি। অবশেষে ৯২ বছর পর সালাহ ও জিকোর গোলে সেই রেকর্ডে নতুন অধ্যায় যোগ হলো।
এদিকে গুরুত্বপূর্ণ এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘জি’-তে বেলজিয়ামকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থানেও উঠে এসেছে মিসর, যা তাদের নকআউট পর্বের সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে।