
জাতীয় সংসদে প্রবেশ বা বের হওয়ার সময় স্পিকার কিংবা সভাপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আর মাথা ঝুঁকানোর বাধ্যবাধকতা নেই বলে স্পষ্ট করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, সংসদ সদস্যরা এখন থেকে নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি ও বিশ্বাস অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ার বা সভাপতির প্রতি সম্মান জানাতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের বাজেট আলোচনার আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন স্পিকার। সম্প্রতি সংসদে বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন সংসদ সদস্য প্রশ্ন তোলার পর তিনি কার্যপ্রণালী বিধি পর্যালোচনা করে তার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
এর আগে গত ১৬ জুন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, সংসদে প্রবেশের সময় মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শনের প্রচলিত ধারণা ইসলামী বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তার মতে, সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধান ও বিশ্বাসের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
পরবর্তীতে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকও একই বিষয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ প্রেক্ষিতে বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত জানানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন স্পিকার।
বৃহস্পতিবার দেওয়া ব্যাখ্যায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির সংশ্লিষ্ট ধারা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পূর্বে ব্যবহৃত “ঝুঁকিয়া” শব্দটি অনেক আগেই বিধি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে বর্তমানে কোনো সংসদ সদস্যকে স্পিকার বা সভাপতির প্রতি সম্মান জানাতে মাথা নত করার বাধ্যবাধকতা নেই।
তিনি আরও জানান, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির সংশোধনের মাধ্যমে এই পরিবর্তন আনা হয়েছিল এবং তা জাতীয় সংসদে গৃহীতও হয়েছে। তাই বর্তমান বিধি অনুযায়ী সম্মান প্রদর্শনের পদ্ধতি নির্ধারণে সদস্যদের নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন ও রীতিনীতি অনুসরণের সুযোগ রয়েছে।
স্পিকার বলেন, “জাতীয় সংসদে প্রবেশ বা বের হওয়ার সময় সদস্যরা তাদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ার কিংবা সভাপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন। কার্যপ্রণালী বিধিতে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর কোনো বাধ্যতামূলক বিধান বর্তমানে নেই।”
তার এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে সংসদে সম্মান প্রদর্শনের পদ্ধতি নিয়ে চলমান আলোচনা ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংসদীয় শিষ্টাচারের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
সংসদ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত সংসদ সদস্যদের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সম্মান করার পাশাপাশি সংসদীয় আচরণবিধির সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করেছে। ফলে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ থাকবে না।