
পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
সোমবার (২২ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত পরিবেশবিষয়ক বিতর্ক উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘যুক্তির সমীরণে প্রাচ্যের ডান্ডি’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনের লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, সৃজনশীল চিন্তাধারা উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বৃক্ষরোপণ, নদী ও খাল পুনঃখননসহ পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। পরিবেশ দূষণ কমিয়ে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন:
মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা, হতে যাচ্ছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি
তিনি আরও বলেন, যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিবেশ দূষণের সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে আলোচনা করা হবে। দূষণের মাত্রা দ্রুত সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে নদী, জলজ সম্পদ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
পানি দূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে উল্লেখ করে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইটিপি (Effluent Treatment Plant) থাকলেও সেগুলো যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। ফলে নদ-নদীতে দূষণ বাড়ছে। এ সমস্যা সমাধানে সরকার বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে অনলাইন মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনছে, যাতে পরিবেশগত মান বজায় রাখা হচ্ছে কিনা তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা যায়।
নারায়ণগঞ্জের দূষণের উৎসগুলো চিহ্নিত করার কাজও চলছে বলে জানান তিনি। এসব উৎসের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নদী রক্ষা করতে হলে এবং সভ্যতার টিকে থাকা নিশ্চিত করতে হলে পরিবেশ সংরক্ষণের বিকল্প নেই।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনবল সীমিত হলেও আন্তরিকতা থাকলে অনেক কাজ করা সম্ভব। জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থা পরিবেশ সুরক্ষার উদ্যোগে সহযোগিতা করছে। পরিবেশ রক্ষাকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
ইটভাটার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৮ হাজার ইটভাটা রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫ হাজার অবৈধ। এসব ইটভাটা পরিবেশ দূষণের অন্যতম প্রধান উৎস। যদিও এখনো ইটের কার্যকর বিকল্প পুরোপুরি চালু হয়নি, তবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সি, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।