
এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ:
“অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, প্রতিটি জীবনই মূল্যবান” — এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জে ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা এবং ২০ জন প্রতিবন্ধীর মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়।
বুধবার (১৩ মে) নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষ ও প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসন এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুল হাসান তাপস। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ রায়হান কবির।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আ ফ মশিউর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ সিফাত উদ্দিন এবং অটিজম ফাউন্ডেশন নারায়ণগঞ্জের কনসালটেন্ট সানজিদা নুসরাত। এছাড়াও জেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং অটিজম স্কুলের শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। র্যালির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির। পরে অটিজম ও প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত ২০ জনের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, গত ২ এপ্রিল বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালন করা সম্ভব না হওয়ায় বুধবার এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। দিবসটির মূল লক্ষ্য হলো অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সামাজিক মূল্যায়ন বৃদ্ধি, অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির বলেন, “অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নয়, তারা সমাজেরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তারা আমাদের মতো অনুভূতি প্রকাশ করতে না পারলেও তাদের মেধা ও সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের জন্য শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “অটিজম শিশুদের মানসিক বিকাশে পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অটিজম শিশুদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে তারা অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার না হয় এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।”