
বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে প্রতিদিন হাজার হাজার টন বর্জ্য জমা হচ্ছে। এসব বর্জ্য সাধারণত ল্যান্ডফিলে ফেলা হয়, যা একদিকে পরিবেশ দূষণ বাড়ায়, অন্যদিকে নগর ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই বর্জ্য থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব, যা দেশের জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
তাদের ধারণা, দেশের বড় শহরগুলোর বর্জ্যকে কাজে লাগিয়ে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতে পারে। এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং বছরে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সফল হয়েছে। বিশেষ করে চীনে শত শত বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনকে সমন্বিত করা হয়েছে। ফলে পরিবেশ দূষণ কমার পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানির উৎসও তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন:
আজ বিশ্ব বাবা দিবস সন্তানের জীবনে বাবার অবদান স্মরণ করার দিন
বাংলাদেশেও এই খাতে আগ্রহ বাড়ছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রস্তাব আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বর্জ্যের স্তুপ এবং দুর্গন্ধ নাগরিকদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আধুনিক বর্জ্য-থেকে-জ্বালানি প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে এই সমস্যার একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান পাওয়া যেতে পারে। প্রযুক্তিগতভাবে বর্জ্যের বড় একটি অংশ প্রক্রিয়াজাত বা দহন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব, ফলে ল্যান্ডফিলের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
তবে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা, দীর্ঘসূত্রতা এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের অভাবে দেশে সম্ভাবনাময় বেশ কয়েকটি বর্জ্য-ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি উৎপাদনকে একই কাঠামোর মধ্যে আনা গেলে দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ এবং নগর ব্যবস্থাপনা—তিন ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন উৎস সৃষ্টি হওয়ায় জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তাও শক্তিশালী হবে।
তাই বর্জ্য-থেকে-বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোকে জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে দেশের বর্জ্য একসময় গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত হতে পারে।