
সীমান্ত এলাকায় পুশ-ইন ইস্যু নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সীমান্তের কিছু দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তার কাজে ব্যবহার করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, এ কাজে একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বিজিবির টহলের সময়সূচি ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, এমনকি অনুপ্রবেশের জন্য নিরাপদ রুট চিহ্নিত করতেও কিছু বাংলাদেশিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, একজনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করতে সহায়তা করলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্ত এলাকায় গিয়ে জানা যায়, কাঁটাতারের বেড়া ও স্থলপথে কড়াকড়ি বাড়ায় এখন নদীপথকে ব্যবহার করে রাতের অন্ধকার কিংবা ভোরের দিকে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও এ ধরনের একাধিক ঘটনার তথ্য রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় কিছু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য মাধ্যমে তারা সীমান্তের বিভিন্ন তথ্য আদান-প্রদান করেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে অনুপ্রবেশের সময় ও পথ নির্ধারণ করা হয়।
আরও পড়ুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে, ২০ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফেরত নিলো বিএসএফ
রোকনপুর সীমান্তঘেঁষা নগরপাড়া গ্রাম বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। অভিযোগ রয়েছে, এই এলাকার সাতজনকে পুশ-ইন কার্যক্রমে সহায়তার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অর্থের লোভে একটি চক্র সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা শুধু পুশ-ইন নয়, মাদক ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত। এমনকি কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে বিএসএফের সঙ্গে সরাসরি ভিডিও কলে যোগাযোগ রাখার অভিযোগও রয়েছে।

তবে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং যেকোনো পুশ-ইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
আরও পড়ুন:
‘৩ লাখ টাকা ঘুষ দিতে না পারায় বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে বিএসএফ’—ভারতীয় নারীর অভিযোগ
১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইসলাম মাসুম জানান, সম্প্রতি পাঁচজনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে অনুসন্ধানে কিছু বাংলাদেশি নাগরিকের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়, যারা বিএসএফকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় কিছু দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে এবং তারা অর্থের বিনিময়ে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত। এ ধরনের অভিযোগে ইতোমধ্যে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যেকোনো মূল্যে সীমান্তে পুশ-ইন ঠেকাতে বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ.এন.এম. ওয়াসিম ফিরোজও জানান, সীমান্ত এলাকায় কিছু বাংলাদেশি নাগরিকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে পুশ-ইন কার্যক্রমে সহায়তা করছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কারা এই চক্রের সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে এবং সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে।