
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বক্তাবলী এলাকায় ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হয়েছেন অভিযুক্ত যুবক হিরু। একই ঘটনায় অভিযুক্ত অপর ব্যক্তি সোহেলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পরপরই জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
শুক্রবার (২২ মে) গভীর রাতে বক্তাবলী এলাকায় ঘটে এই মর্মান্তিক ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে খেলাধুলার সময় শিশুটিকে কৌশলে ডেকে নিয়ে যায় অভিযুক্ত হিরু ও সোহেল। পরে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে তাকে মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত হিরুকে আটক করে গণধোলাই দেয়। পরে রাত আড়াইটার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। বর্তমানে সে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে অপর অভিযুক্ত সোহেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে সে থানার হেফাজতে রয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) সকালে ঘটনাটির অগ্রগতি তদারকি ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে ফতুল্লা থানা পরিদর্শন করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির এবং জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সী। এ সময় তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনার আশ্বাস দেন।
পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন,
“এটি অত্যন্ত জঘন্য ও মানবতাবিরোধী ঘটনা। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এই মামলায় দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, সমাজে এ ধরনের পৈশাচিক অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।
জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন,
“ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অপরজন পুলিশি পাহারায় হাসপাতালে রয়েছে। মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুত চার্জশিট দাখিলের লক্ষ্যে কাজ চলছে।”
তিনি আরও জানান, এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুব আলম বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।