
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, যৌন হয়রানি এবং অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এক শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু কথোপকথনের স্ক্রিনশটও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে অভিযুক্ত শিক্ষক বিভিন্ন সময় ব্যক্তিগত ও অস্বস্তিকর বার্তা পাঠাতেন। পাশাপাশি মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা একজন শিক্ষকের পেশাগত ও নৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, শুরুতে বিষয়টি প্রকাশ না করলেও পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠায় তিনি সিনিয়র শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি অবহিত করেন। তার ভাষায়, “একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনো শিক্ষার্থীর জন্যই প্রত্যাশিত নয়। আমি চাই সত্য উদঘাটিত হোক এবং কেউ যেন ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির শিকার না হয়।”
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আরও কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই অভিযুক্ত শিক্ষক বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগত ও অস্বস্তিকর মন্তব্যের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিব্রত করে আসছিলেন।
তবে অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছেন এবং আইনগত পদক্ষেপ হিসেবে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানিয়েছেন।
এদিকে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশিদ খান জানিয়েছেন, ডিনদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পর অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিন প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান নিয়োগ করা হয়েছে এবং অভিযোগ তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, “তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা এবং ক্যাম্পাসে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের মতে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করতে যৌন হয়রানির অভিযোগে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত অপরিহার্য। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর নীতিমালা ও নজরদারি জোরদারেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।