
চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খায়রুল ইসলাম সজীবকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী। আটক খায়রুল ইসলাম সজীব জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
আরও পড়ুন:
মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনা
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, সজীবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়। তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে সহযোগিতামূলক আচরণ করে সজীব স্বেচ্ছায় এসপি কার্যালয়ে আসেন। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খায়রুল ইসলাম সজীবকে ডিএমপির গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সাইনবোর্ড পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি কার্যালয়ে জেলা বিএনপির সাইনবোর্ড সরিয়ে সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের কার্যালয়ের সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরে সমালোচনার মুখে দুই দিনের মাথায় ওই কার্যালয়ে আবার জেলা বিএনপির সাইনবোর্ড পুনঃস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে সরিয়ে ফেলা দলীয় নেতাদের ছবিও আগের স্থানে ফিরিয়ে আনা হয়।
উল্লেখ্য, আজহারুল ইসলাম মান্নান নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এবং সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, খায়রুল ইসলাম সজীবের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।