
বাংলাদেশ পুলিশের ইউনিফর্মে আবারও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকারের প্রকাশিত নতুন গেজেট অনুযায়ী, বাহিনীর সদস্যরা এখন থেকে গাঢ় নীল ও হালকা অলিভ (জলপাই) রঙের সমন্বয়ে তৈরি পোশাক পরবেন। তবে প্যান্টের রং সবার জন্য খাকি নির্ধারণ করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, জেলা পুলিশ ও অন্যান্য ইউনিটের সদস্যদের শার্ট হবে গাঢ় নীল রঙের। অন্যদিকে দেশের সব মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিটের সদস্যরা হালকা অলিভ বা জলপাই রঙের শার্ট ব্যবহার করবেন। তবে উভয় ক্ষেত্রেই প্যান্টের রং খাকি থাকবে।
গেজেটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), স্পেশাল প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন (এসপিবিএন), স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর ইউনিফর্মে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তারা আগের পোশাকই ব্যবহার করবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশ বাহিনীতে বিভিন্ন ধরনের সংস্কারের দাবি সামনে আসে। সেই সময় ইউনিফর্ম পরিবর্তনের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। পরবর্তীতে গত বছরের ২০ জানুয়ারি আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুলিশের জন্য আয়রন বা লোহা রঙের নতুন ইউনিফর্ম নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং ২৫ নভেম্বর থেকে সদস্যরা মাঠপর্যায়ে সেই পোশাক ব্যবহার শুরু করেন।
তবে নতুন ইউনিফর্ম চালুর পর পুলিশ সদস্যদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই পোশাকের রং ও নকশা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের মন্তব্য ও ট্রলের কারণে অনেক সদস্য অস্বস্তির কথা জানান।
পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ইউনিফর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায়। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সংগঠনটি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়।
সংগঠনের বক্তব্য ছিল, নতুন ইউনিফর্ম নির্বাচনের ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের মতামত, দেশের আবহাওয়া এবং সদস্যদের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি তারা দাবি করে, নতুন পোশাকের সঙ্গে অন্যান্য ইউনিফর্মধারী সংস্থার পোশাকের মিল থাকায় মাঠপর্যায়ে পুলিশকে সহজে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাদের মতে, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে করা এ পরিবর্তনের পক্ষে বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য ছিলেন না।