
এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ:
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসন। যানজট নিয়ন্ত্রণ, যাত্রীসেবা নিশ্চিত এবং পশুর হাটে নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের নির্দেশনা এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পরিবহনকেন্দ্রিক এলাকাগুলোতে ৫৪ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁরা বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট এবং যানজটপ্রবণ পয়েন্টগুলোতে দায়িত্ব পালন করবেন।
একই সঙ্গে ঈদুল আজহা উপলক্ষে বসা বিভিন্ন পশুর হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরও ৬০ জন আনসার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব সদস্য জাল নোট শনাক্তকরণ, অতিরিক্ত হাসিল আদায় প্রতিরোধ, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সক্রিয় থাকবেন।
এছাড়া যানজট কমানো ও যাত্রীদের সহায়তায় প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পরিচালিত এসব স্বেচ্ছাসেবক সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সহায়তা করবেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঈদকে ঘিরে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, পশুর হাটকেন্দ্রিক ভিড় এবং ছিনতাই বা চাঁদাবাজির মতো অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসনের এই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও আনসার বাহিনী যৌথভাবে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, “ঈদে মানুষ যেন স্বস্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বাড়ি ফিরতে পারে, সেটিই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আনসার সদস্যরা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করবেন এবং পশুর হাটগুলোতেও কঠোর নজরদারি থাকবে।”
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, “নারায়ণগঞ্জ একটি শিল্পসমৃদ্ধ জেলা হওয়ায় ঈদের সময় বিপুল সংখ্যক মানুষ এখান থেকে নিজ নিজ গন্তব্যে যায়। তাই যাত্রাপথকে যানজটমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং কার্যক্রম চালু থাকবে।”